গলাচিপা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা জলিল মৃধা (৫০)। পেশায় তিনি একজন ভিক্ষুক এবং তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম কাটাখালী বাজারের চায়ের দোকানগুলোতে পানি টেনে কোনোমতে সংসার চালান। এমন হতদরিদ্র হলেও জলিল মৃধার বাপ-দাদার রেখে যাওয়া বিপুল সম্পদ রয়েছে, যা প্রভাবশালীরা জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের পাঁতারা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জলিল মৃধা জবেদ আলির নাতি ও আব্দুল আলি মৃধার ছেলে। তিনি জানান, রতনদী তালতলী মৌজার খতিয়ান ২৯৭, জেএল নং ১০২, এবং ৫৩১, ৫৩২, ৫৩৩, ৫৩৪, ৫৪১, ৫৪৩-সহ অন্যান্য দাগে তাঁর বাপ-দাদার মোট ১২ একর ৮৭ শতাংশ জমি রয়েছে। এই জমির বৈধ ওয়ারিশ তিনি নিজেই। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী কবির হাওলাদার, আলাউদ্দিন হাওলাদার, রেজাউল হাওলাদার ও মস্তফা হাওলাদারসহ একটি চক্র জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে এই জমি হাতিয়ে নেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে জলিল মৃধা জানান, অর্থাভাব ও চরম দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালীরা তাঁদের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করছে। এই জালিয়াতি ও প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে আইনজীবী সাইদুল রহমানের মাধ্যমে তিনি পটুয়াখালীর সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
জলিল মৃধার স্ত্রী জাহানারা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘‘আমরা অত্যন্ত গরিব মানুষ। আমার স্বামী ভিক্ষা করে আর আমি বাজারে পানি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমাদের শ্বশুরের নামে অনেক সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও গরিব হওয়ার কারণে প্রভাবশালীরা তা জোর করে খাচ্ছে।’’
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও জলিল মৃধার পক্ষে মুখ খুলেছেন। একই এলাকার বাসিন্দা ইয়াসিন রারি ও শিরিন বেগম জানান, জলিল মৃধা ও তাঁর স্ত্রী মানুষের দ্বারে দ্বারে কাজ করে এবং বাজারে পানি টেনে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বাস্তবে তাঁর শ্বশুরের নামে প্রচুর সম্পত্তি থাকলেও অর্থের অভাবে তারা তা উদ্ধার করতে পারছেন না এবং প্রভাবশালীরা সেই জমি দখল করে রেখেছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘জলিল মৃধা অত্যন্ত গরিব মানুষ এবং তারা কাটাখালী বাজারে পানি সরবরাহ করে সংসার চালায়। বাস্তবে তাদের অনেক জমি ছিল।’’
এ বিষয়ে রতনদী তালতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মস্তফা খান জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ মীমাংসার ব্যবস্থা করবেন।
তবে অভিযুক্ত কবির হাওলাদার ও আলাউদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিজের পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে এবং জাল-জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনার পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায্য বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জলিল মৃধা।







