দুমকি প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় এখন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা তৈরি নিয়ে খানিকটা ভোগান্তি পোহাতে হলেও, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পুরো উদ্যোমে মাঠে নেমে পড়েছেন চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ট্র্যাক্টর ও পাওয়ার টিলারের শব্দ এবং চারা রোপণের ধুম লেগেছে।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুমকি উপজেলায় আমন চাষের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর। তবে বর্তমানে যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, তাতে বাস্তবে ৬ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌসুমের শুরুতে ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়; এমনকি অনেককে দুইবার পর্যন্ত বীজ বুনতে হয়েছে। তবে সেই ধাক্কা সামলে এখন বীজের অবস্থা বেশ ভালো।
শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই উপজেলার উঁচু জমিগুলোতে বিভিন্ন জাতের আমনের চারা রোপণ শুরু হয়। বর্তমানে নিচু ও সাধারণ জমিতেও রোপণের কাজ পুরোদমে চলছে। কৃষকরা জানান, সময়মতো বৃষ্টি ও আবহাওয়া ভালো থাকায় চারা রোপণ করা অনেক সহজ হচ্ছে।
উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, নলদোয়ানী, হাজীর হাট, লেবুখালী, কার্তিকপাশা, আঠারোগগাছিয়া, আঙ্গারিয়া, বাহেরচর, জলিশা, শ্রীরামপুর, রাজাখালী, চরবয়ড়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ মুরাদিয়া ঘুরে দেখা যায় বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে চাষিদের ব্যস্ততা। এখানকার অধিকাংশ জমি বছরে তিনবার ফসল উৎপাদনের উপযোগী। তাই ভাদ্র মাসের মধ্যেই আমন রোপণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তাঁরা।
দক্ষিণ শ্রীরামপুর স্যানের চরের ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ কৃষক সুলতান ফকির জানান, ‘‘বোরো ধান কাটার পর এখন তিনি একই জমিতে আমনের চারা রোপণের জন্য জমি তৈরি ও রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।’’
তবে কৃষকদের সবটা হাসিমুখের নয়; খরচের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
দক্ষিণ মুরাদিয়ার কৃষক শূশীল মৌয়ালী (৫০) বলেন, ‘‘ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া ও শ্রমিকের মজুরি (লেবার খরচ) বেড়ে যাওয়ায় এবার জমি চাষাবাদ করতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। চড়া মূল্যে শ্রমিক নিয়ে চারা রোপণ করতে হচ্ছে।’’
দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, শুরুর দিকে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলায় কিছুটা সমস্যা হলেও বর্তমানে চারার মান অত্যন্ত ভালো। কৃষকদের ঐতিহ্যগত দেশী জাতের বাইরে নিয়ে এসে উচ্চফলনশীল জাত ‘ব্রি-ধান ১০৩’ (চিকন ও সুগন্ধি ধান) চাষের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ব্রি-ধান ৪৯, ৭৫, ৮০, ৯৮ এবং বিনা ধান-৭, ১৭ ও ২৬ জাতের ধানও চাষ করছেন স্থানীয়রা। সঠিক সময়ে চারা রোপণ, পরিমিত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও এসময় জানান তিনি।







