বাউফল প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে চাঁদা দাবি ও পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। পরে কালাইয়া বন্দরের অন্যান্য সাধারণ ব্যবসায়ীরাও তাদের এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালাইয়া বন্দরের সুন্দরী সিনেমা হল সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বন্দরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সিনেমা হল সড়কে এসে শেষ হয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি, হুমকি ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ভুক্তভোগী ‘মায়ের দোয়া ফার্নিচার মার্টের’ মালিক মো. শহিদুল মোল্লার অভিযোগ, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন কয়েকজন সহযোগী নিয়ে তার দোকানে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়।
পরবর্তীতে শহিদুল মোল্লা বিষয়টি স্থানীয় যুবদল নেতা স্বপন মৃধা, রুবেল চৌকিদার ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিয়াজ পঞ্চায়েতকে জানান। বিষয়টির মীমাংসার উদ্দেশ্যে কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী ইব্রাহিমের নির্দেশে স্বপন মৃধা উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুন্দরী সিনেমা হলের একটি কক্ষে সালিশের কার্যক্রম চলাকালে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম তার লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তিনি সালিশদারদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং উপস্থিত ব্যবসায়ীদের ওপর লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহিন মোল্লা, মো. রাব্বি ও শহিদুলকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফার্নিচার ব্যবসায়ী শহিদুল মোল্লা বলেন, ‘‘চাঁদা দিতে না চাওয়ায় আমাদের অব্যাহত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সালিশে সমাধান চাইতে গিয়ে উল্টো আমরা হামলার শিকার হয়েছি। এ ঘটনায় আমরা বাউফল থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’’
ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে যুবদল নেতা স্বপন মৃধা বলেন, ‘‘উভয় পক্ষই আমাদের সালিশ মেনে নিয়েছিল। কিন্তু আলোচনা চলাকালে ইব্রাহিম সালিশকারীদের সঙ্গে যে অশালীন আচরণ ও হামলা চালিয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’’
এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা ইয়াসিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো নাটক। এর পেছনে জামায়াত জড়িত। ইয়াসিন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত—এমন প্রমাণ দিতে পারলে আমি নিজেই তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করব।’’
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







