পবিপ্রবি প্রতিনিধি : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) র্যাগিং ও নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ড. রাহাত মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নবীন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্তে র্যাগিংয়ের পরিকল্পনা, নেতৃত্ব প্রদান, সরাসরি অংশগ্রহণ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
শাস্তির মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, এক সেমিস্টার থেকে এক বছরের জন্য হল ও ক্লাস থেকে বহিষ্কার, অভিভাবকের উপস্থিতিতে মুচলেকা প্রদান এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধে জড়িত হলে স্থায়ী বহিষ্কারের সতর্কতা।
এছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে শাস্তি স্থগিত রেখে তাদের বিশেষ নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা জরিমানা পরিশোধ ও মুচলেকা দাখিল না করলে তাদের বিরুদ্ধে মূল শাস্তি কার্যকর করা হবে।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, র্যাগিংমুক্ত ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে আরও কঠোর মনিটরিং বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।







