কলাপাড়া প্রতিনিধি : দীর্ঘ দেড় দশক অন্ধকার ও জরাজীর্ণ ঘরে নিভৃতে বন্দী থাকার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সালেহা বেগম। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর শনিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবারের সহায়তায় তাকে ঘরবন্দী অবস্থা থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় কলাপাড়া পৌর শহরের নাচনাপাড়া এলাকার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি ঘর থেকে সালেহা বেগমকে বের করে আনেন তার ছেলে জিয়াউর রহমান। এ সময় উদ্ধার অভিযানে সরজমিনে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বামী আবুল কালামের মৃত্যুর পর থেকেই গত ১৫ বছর ধরে ওই একচালা জরাজীর্ণ ঘরটিতে একপ্রকার অমানবিক জীবনযাপন করছিলেন সালেহা বেগম। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি একবারের জন্যও ঘরের বাইরে আসেননি এবং কারো সাথে কোনো কথা বলেননি। এমনকি তার গোসল বা নিত্যদিনের প্রাকৃতিক কাজ কোথায় হতো, তা-ও প্রতিবেশীদের অজানা ছিল। কেবল তার মেয়ে লাকী বেগম তাকে নিয়মিত খাবার দিয়ে আসতেন। আর একমাত্র ছেলে নিজে কিডনি রোগে আক্রান্ত থাকায় মায়ের উপযুক্ত দেখাশোনা করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। এতদিন পর বৃদ্ধা নারীকে মুক্ত বাতাসে বের হতে দেখে সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
সহায়তার সার্বিক চিত্র জানিয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘উদ্ধারের পরপরই ওই নারী ও তার অসুস্থ ছেলেকে চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে দ্রুত সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সমাজসেবামূলক সুবিধার আওতায় আনতে এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’’
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, ‘‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃদ্ধা সালেহা বেগমকে নতুন একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’’







