মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : নিয়মিত অফিস না করা, চরম নাগরিক ভোগান্তি সৃষ্টি এবং অসদাচরণের অভিযোগে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) পটুয়াখালী সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ওহিদুজ্জামান মুন্সী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে পরবর্তী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, কর্মস্থল মির্জাগঞ্জ হলেও সেলিম রেজা প্রতিদিন প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে বরিশাল শহর থেকে যাতায়াত করেন। সকাল ৯টায় অফিস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তিনি দুপুর ১২টার দিকে কর্মস্থলে পৌঁছান। এর ফলে এনআইডি সংশোধন ও ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ জরুরি কাজে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গত ২৪ আগস্ট ‘দৈনিক সাথী’ পত্রিকার প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান অফিস ফাঁকি ও সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির বিষয়ে তথ্য জানতে গেলে সেলিম রেজা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীর সাথে অশালীন আচরণ করেন এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সেলিম রেজা নির্বাচনী কাজের ব্যস্ততাকে দেরিতে আসার কারণ হিসেবে দাবি করেন এবং বাকবিতণ্ডার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, অফিসে অনুপস্থিতি ও অসদাচরণ নাগরিক সেবায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। নোটিশের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব, বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বেও অর্থ আত্মসাৎ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল তার বিরুদ্ধে কেবল শোকজ নয়, বরং দ্রুত কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।







