পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন সুলতানা বলেন, ‘‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা সম্পর্কে জনগণ সময়মতো তথ্য জানতে পারলে এবং সচেতন হলে সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ হয়। এর পাশাপাশি বাল্যবিয়ে বন্ধ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট আইন ও হটলাইন নম্বরগুলোর ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।’’
বদরপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র শীল এবং উপজেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি স. ম. দেলোয়ার হোসেন দিলীপ।
দাতা সংস্থা জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপ ও ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’-এর অর্থায়নে, ‘উইক্যান’-এর সহযোগিতায় পরিচালিত নাগরিক প্রকল্পের আওতায় ‘সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সী’ (এসডিএ) এই সংলাপের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সংলাপে উদ্দেশ্য ও নাগরিক ফোরামের কার্যক্রম তুলে ধরেন এসডিএ-র নির্বাহী পরিচালক কে এম এনায়েত হোসেন। এরপর মুক্ত আলোচনায় উপজেলা নাগরিক ফোরামের কার্যনির্বাহী সম্পাদক সাবরিনা শাহানাজ মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন।
মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি মো. শহিদুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম, কামরুল হাসান লালমিয়া ও নাসিমা রহমান। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ফোরামের মাহফুজা ইসলাম, নাগরিক নেতা মো. আরিফ বিল্লাহি, এফপিআই মেহেদী হাসান এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈকত মজুমদার সৌরভ।
সংলাপ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে আসা বিভিন্ন সুপারিশ প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সরকারি সেবা প্রাপ্তির পদ্ধতি সহজতর করা, বেশি বেশি প্রচারনা চালনো, শিশুবিবাহরোধে অভিভাবকদের সাথে কাজ করা, শিশু শিক্ষা নিশ্চিতকরা, যৌতুকবন্ধ করা, যৌন হয়রানী ও ধর্ষনরোধে শিশুদের সাথে কাজ করা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে দেশে প্রচলিত আইন ও হটলাইন সম্পর্কে প্রচার করা।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউপি সদস্য, শিক্ষক, সমাজসেবক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক প্রকল্পের আওতায় গঠিত পটুয়াখালীর তিনটি নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।







