বাউফল প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফলে প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পটুয়াখালী-ভোলা সেতুর দাবিতে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদী তীরের ধুলিয়া ও পার্শ্ববর্তী দুর্গাপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ধুলিয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।
ভোলা জেলার ভেলুমিয়া ও পটুয়াখালীর ধুলিয়া সেতু ও টেকসই বাঁধ আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক মোফাজ্জেল হক মফুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান বক্তব্য রাখেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার। এতে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মো. তছলিম উদ্দিন তালুকদার, জামায়াতের উপজেলা আমির মাও.রফিকুল ইসলাম, সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে রাইয়ান আকাশ, উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মোঃ খালিদুর রহমান, ঢাকাস্থ বাউফল উপজেলা জনকল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ: রব মিয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন (বাবুল), উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌসিফুর রহমান (রাফা), স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ নাঈম হোসেন (তারেক) প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতার পর থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন। তেঁতুলিয়া নদীর করাল গ্রাসে ক্রমাগত বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মাদ্রাসা। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন ধুলিয়াবাসী। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাউফলের মানচিত্র থেকে ধুলিয়া ইউনিয়ন চিরতরে মুছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে সেতু নির্মিত হলে ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, বরিশাল ও পায়রা বন্দরের সঙ্গে বাকেরগঞ্জের এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরি হবে। এতে ৬টি জেলার ২৫টি উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম হওয়ার পাশাপাশি গড়ে উঠবে শিল্প-কারখানা এবং সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলন কমিটির সংবাদ সম্মেলন থেকে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে টেকসই বাঁধ ও সেতু নির্মাণের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।







