কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটায় সাগরের তীব্র ভাঙনে ট্যুরিস্ট পুলিশের সার্ভিস বক্সটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে মেরিন ড্রাইভের সানসেট পয়েন্টসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ধস, যা সাগররক্ষা বাঁধ ও নবনির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়ককে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। সম্প্রতি জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিমে লেম্বুর বন পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও জরুরি পদক্ষেপ না নেওয়ায় তা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে জিরো পয়েন্টের পশ্চিমে সিসি ব্লক দেবে গিয়ে স্থানচ্যুত হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কিছু এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে লোনা পানি ঢুকে পড়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম মিরন জানান, গত ৩০-৩৫ বছরে জিরো পয়েন্ট থেকে অন্তত দেড় কিলোমিটার সৈকত সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। কুয়াকাটা উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটির সদস্য মো. ফারুক মীরের মতে, পূর্বের বিস্তীর্ণ ফয়েজ মিয়ার নারকেল বাগান, ইকোপার্ক, ঝাউবন, এলজিইডির রেস্ট হাউজসহ অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ইতোমধ্যে সাগরে তলিয়ে গেছে।
সৈকত রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা আন্দোলন করলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ভাঙন রোধে পাউবো ইতিপূর্বে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিলেও তা পাশ হয়নি। সর্বশেষ গত বছর জমা দেওয়া ৭৫৯ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পটি এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, ‘‘চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে ব্যবসায়ীদের কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। সাগরভাঙন রোধ করা না গেলে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পে বড় বিপর্যয় ঘটবে।’’
কলাপাড়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, প্রকল্পের ব্যয় বেশি হওয়ায় মূল প্রস্তাবটি অনুমোদনে বিলম্ব হচ্ছে। তাই ধাপে ধাপে কাজ করার লক্ষ্যে একটি কম ব্যয়সাপেক্ষ বিকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে দ্রুত সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘‘সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বড় প্রকল্পটি যেন দ্রুত পাস হয়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’







