কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পৈত্রিক সম্পত্তির পাওনা অংশ চাওয়াকে কেন্দ্র করে গোলাপি আক্তার নামের এক ওয়ারিশ নারীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার চাচাদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানান, প্রায় চার বছর আগে গোলাপি আক্তারের বাবা মারা যান। এরপর থেকেই তার চাচারা পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখেন। চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকা সন্তানেরা সম্প্রতি বাড়িতে এসে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে জমি বুঝিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। অভিযোগ উঠে, শালিস বৈঠকের কথা শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে চাচারা এ হামলা চালান।
আহত গোলাপি আক্তার জানান, শুক্রবার তার ভাই মেহেদী ও ইমরান মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে গেলে সোহেল খান, ফিরোজ খান, দুলাল খান, বাবুল খান, এনায়েত খান, পিয়ারা বেগম ও শাজাহান রাঢ়ীসহ কয়েকজন তাদের ওপর চড়াও হন। খবর পেয়ে গোলাপি আক্তার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকেও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে।
আহতের ভাই মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘বাবার মৃত্যুর পর থেকে চাচারা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে জমি দখল করে রেখেছেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ইউপির মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালালো।’’ তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফিরোজ খান জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘‘তারা যে জমির দাবি করছে, তা তারা পাবে না।’’ তবে হামলার বিষয়ে স্পষ্ট কথা না বললেও নিজেদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, ‘‘ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ মেলেনি। ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’







