পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি বন্ধকের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে জিসান (১২) নামের এক শিশু এবং তার মা নাজমা বেগমকে (৩৫) বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে।
মারধরের ঘটনায় চার দিন ভয়ে ঘরের বাইরে বের হতে পারেননি ভুক্তভোগীরা। পরে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।
গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশু জিসান ওই গ্রামের মৃত বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে। ইতোমধ্যে মা- ছেলেকে পেটানোর একটি ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা বেগম জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদার মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি বিএনপি নেতা চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইয়ের কাছে চার বিঘা জমি বন্ধক রেখে নগদ এক লাখ টাকা দেন। তবে লেনদেনের কোনো লিখিত দলিল বা প্রমাণ ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর নাজমা বেগম একাধিকবার ওই পাওনা টাকার লিখিত প্রমাণ বা দলিল করে দেওয়ার জন্য তাগিদ দিয়ে আসছিলেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিএনপি নেতা চুন্নু ও তার ভাই আবদুল হাই।
নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে রাস্তার মাটি কর্দমাক্ত থাকায় তারা চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে যাতায়াত করতেন। গত শুক্রবার রাতে চুন্নু ও তার ভাই তাদের ঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে মানিব্যাগ চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাঁশের লাঠি ও বেত দিয়ে মা ও ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মূলতঃ জমি বন্ধকের টাকার প্রমাণ চাওয়ার জের ধরেই তাদের ওপর এই অত্যাচার চালানো হয়েছে।
মারধরের অভিযোগ স্বীকার করে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, ‘‘ঐ ছেলেটি আমার আত্মীয়। সে একজন চোর এবং জাতীয়ভাবে চোর হিসেবে গড়ে উঠছে।’’
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি এখনো বিস্তারিত অবগত নন। তবে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







