পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নূরপুর দাখিল মাদরাসায় তিনটি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনেক যোগ্য প্রার্থীকে পরীক্ষার চিঠি বা ফোন না দেওয়া, গোপনে ‘পকেট কমিটি’ গঠন এবং ভারপ্রাপ্ত সুপারের শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নিয়োগপ্রার্থী ও স্থানীয়রা। এসব নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মেধার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা।
গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের নূরপুর দাখিল মাদরাসার সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে নিয়োগপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক ও আয়া—এই তিন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে গোপনে একটি ‘পকেট কমিটি’ করা হয় এবং যোগ্য অনেক প্রার্থীকে পরীক্ষার বিষয়ে যথাসময়ে চিঠি বা ফোনে জানানো হয়নি।
নিয়োগের তথ্য অনুযায়ী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মো. মুসা, অফিস সহায়ক পদে ৯ জনের মধ্যে মুসার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার নিশাত এবং আয়া পদে ৬ জনের মধ্যে মুক্তা মনি নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মো. মুসা ও রাবেয়া আক্তার নিশাত ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়ালের শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রী।
কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহকারী পদে নিয়োগপ্রার্থী মো. সিফাত উল্লাহ জানান, তিনি অফিস সহকারী পদে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে তার কাছে পরীক্ষার চিঠি পৌঁছায়। তার অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার কথা বলে মাদরাসার সভাপতি মো. জাকির হোসেন তার বাবার মাধ্যমে জমি বিক্রি করিয়েছেন এবং ১০ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে নিয়োগ বাতিল এবং মেধার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
আয়া পদে নিয়োগপ্রার্থী আরিফার মা পারভীন আক্তার অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল চার লাখ টাকা অগ্রিম নিয়েছেন। পরে তার মেয়েকে নিয়োগ না দিয়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। টাকা ফেরত অথবা নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
নিয়োগপ্রার্থী মারুফা অভিযোগ করেন, নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অভিযোগ, এই সুযোগে সুপার তার শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রীকে নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করে নিয়োগপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, তার বাবা মাদরাসার জমিদাতা মরহুম আব্দুর রশিদ খান। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রভাব খাটিয়ে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুস সালাম ও সেলিম রেজাসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদরাসার শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফলে অবনতি হয়েছে। তাদের দাবি, চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় ১৩ জন অংশ নিয়ে মাত্র দুজন উত্তীর্ণ হয়েছে। তারা ভারপ্রাপ্ত সুপারের অপসারণেরও দাবি জানান।
তবে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘সম্পূর্ণ সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। কারও কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি।’
মাদরাসার সভাপতি মো. জাকিরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীরা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, পরীক্ষার ফলাফল, পরীক্ষার্থীদের চিঠি বা ফোন দেওয়ার তথ্য, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন এবং বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান।







