রাজিব সুজন : ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য ও টেকসই নগরায়ণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম এ আহিদ অপুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌধুরী আশরাফুল করিম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোঃ আবু ইউসুফ।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ জিয়াউর রহমান, জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. কামাল হোসেন, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. শাহআলম, পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে হলে সর্বাগ্রে সবার জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্টের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক জীবনে নানাবিধ সংকটের সৃষ্টি করে। তাই আধুনিক নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যোগাযোগব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিত স্থাপনা ও বস্তি গড়ে উঠলে নগরের স্বাভাবিক সুবিধা ব্যাহত হয়। আবাসন নির্মাণের সময় অন্যের অধিকার ও স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করে প্রচলিত আইন ও পরিকল্পনা মেনে চলার আহ্বান জানান তারা।
একইসাথে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, কেবল দালানকোঠা বা ভবন নির্মাণ করলেই টেকসই বসতি হয় না; মানুষের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করাই বসতি দিবসের মূল লক্ষ্য। এ জন্য সরকারি সংস্থার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।







