পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিশ্রীপাড়ায় অবস্থিত শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী সীমা বৌদ্ধবিহারের মূল ফটক পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে বিহার কর্তৃপক্ষের টাঙানো তালা খুলে দেওয়া হয়। ফলে শুক্রবার ভোর থেকে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা ফের বিহার ও মন্দির পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিহারের সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি ছোট দোকান ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিহার কমিটি। মঙ্গলবার সকালে নির্মাণকাজ চলাকালে স্থানীয় শামসুল আলম ও নাসির উদ্দিন হাওলাদার এতে বাধা দেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নাসির উদ্দিন হাওলাদার বিহার কমিটির সভাপতি ও প্রবীণ রাখাইন নেতা মংলাচিংয়ের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা বুধবার প্রথমে বিহারের সামনে নীরব প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিহারের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ সংবলিত ফেস্টুন টাঙিয়ে দেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান ও মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বিহারের ফটক খুলে দেন রাখাইন নেতারা।
ঘটনার বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, ‘‘খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে রাখাইন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন হাওলাদারসহ দুজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘‘আমরা রাখাইন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি আপাতত নিরসন করেছি এবং পর্যটকদের জন্য বিহারটি উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করেছি।’’







