দশমিনা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনায় চরের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভূমিদস্যুদের হামলায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পাঁচখালী চরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— মো. মোস্তফা খলিফা (৬২), আউয়াল ফকির (৬০), সিদ্দিক ফকির (৪০), হারুন মুন্সি (৫৩), রত্তন বয়াতি (৩৮), আবুল কালাম হাওলাদার (৬০), ইউনুস হাওলাদার (৭০), ওহবা (৩৫), শাহ আলম (৭৬), হাসেম হাওলাদার (৬০), দুলাল হাওলাদার (৫০), মোয়াজ্জেম সরদার (৫৮), মনির খন্দকার (৫৫), শাহ আলম সিকদার (৪৫) ও মালেক হাওলাদার (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচখালী চরে নিজেদের রেকর্ডীয় জমি চাষাবাদের উপযোগী করতে ভ্যাকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ করছিলেন ভুক্তভোগীরা। জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে একাধিকবার থানায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং থানা পুলিশের নির্দেশে আপাতত বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কাজ বন্ধ রেখে তারা যখন সকালে খাবার খেতে বসেছিলেন, তখন ট্রলারযোগে মনির চৌকিদার, সাকুর হাওলাদার, নূরে আলম, ইস্কান্দার, বেল্লাল ফরাজি ও রিয়াজ হাওলাদারসহ প্রায় ৩০-৩৫ জনের একটি দল চরে এসে উপস্থিত হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা চড়াও হয় এবং লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় চাল, ডাল, ডিজেল, নগদ টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় বলেও তারা দাবি করেন।
খবর পেয়ে স্বজনরা ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় মো. মোস্তফা খলিফা ও আউয়াল ফকিরকে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইস্কান্দার বলেন, ‘‘আমি সেখানে ভ্যাকুর কাজে গিয়েছিলাম, কাউকে মারধর করতে যাইনি। বরং আমি মারামারি থামানোর চেষ্টা করেছি। ওই চরে আমার কোনো জমিজমাও নেই।’’
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, ‘‘ঘটনাটি শোনার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’







