সাথী প্রতিবেদক: বরগুনা-১ (আমতলী- তালতলী-বরগুনা সদর) আসনে দলীয় মনোনয়নে পাঁচ বারের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে ঠেকাতে মাঠে নেমেছেন আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয়ঘোষিত সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান ।
তৃণমুল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সাংসদ শম্ভুর কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান সমর্থণে মনোনয়ন প্রত্যাশায় কাজ করছেন। মনোনয়ন পেতে আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান আমতলী-তালতলী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। উৎফুল্ল সাধারণ জনগণ ও তৃণমুল নেতাকর্মীরা। গোলাম সরোয়ার ফোরকান আস্থা সাধারণ মানুষের। আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান ছিলেন বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয়ঘোষিত আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ।
তিনি ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসনের নির্বাচন পরিচালনা করেছেন।তাকে ২০০২ সালে তাকে বরগুনা-৩ উপনির্বাচনে নৌকা নমিনেশন দিয়েছিলেন।কিন্ত বিএনপি -জামাতের সরকার ক্ষমতায় থাকার কারনে ওই নির্বাচন হেরে যান।২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপকভোটে আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন।২০২২ সালে ৩০ অক্টোবর আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে তাঁর ছেলেকে মেয়র মতিয়ার রহমান এর ভাগ্নিনা আহত করেন। ২০২২ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারনসম্পাক বাহাউদ্দীন নাসিম আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকানকে সভাপতি ও প্রভাষক জিএম ওসমানী হাসানকে সাধারন-সম্পাদক করা হয়।
কিন্ত ২০২৩ সালে ৫ই জুন মাননীয় সংসদের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু তিনি আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকানকে প্রতিদন্দ্বি ভাবায় বিগত বিএনপি জাতীয় পার্টি করা ও দুর্নীতি দায়ে দুদুকে মামলা চলমান মেয়র মতিয়ার রহমানকে সভাপতি দিয়ে একটি কমিটি করে।এই কমিটি নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভুয়া ও স্হানীয় নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানায়।এই নিয়ে দ্বন্দ্ব এখনো বিরাজমান।
জানাগেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা- ১ (আমতলী-তালতলী-বরগুনা সদর) আসনে যে ক’জন নেতা আওয়ামীলীগ মনোনয়ন পেতে প্রত্যাশা করছেন তাদের মধ্যে গোলাম সরোয়ার ফোরকান অন্যতম। বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক উপমন্ত্রী ও জেলা আ’লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু সংগঠনকে কুক্ষিগত করে পরিবার লীগে পরিনত করেছেন। তার বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়েই তিনি চালাচ্ছেন দলীয় কর্মকান্ড এমন অভিযোগ করেন গোলাম সরোয়ার ফোরকান । এতে কোনঠাসা হয়ে পরেছেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আছেন। দীর্ঘসময় দল ও সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বলে দাবী করেন আমতলী উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাবেক সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খাঁন।
এসব কারণে জেলা আওয়ামীলীগ, অঙ্গ সংগঠনের বেশির ভাগ নেতাকর্মীরা এখন তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নিতে একাট্টা। তিনি একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়ে আমতলী-তালতলী জনগনের সাথে কোন সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবী করেন আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির হাওলাদার। এছাড়াও দলীয় কোন্দলে তার ছিল সিদ্ধহস্ত বলে অভিযোগ তৃণমুল নেতাকর্মীদের।
গত ১৫ বছরে আমতলী ও তালতলীর উন্নয়নে তেমন গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখেননি সাংসদ শম্ভু। এতে তার প্রতি সাধারণ মানুষ ও তৃণমুল নেতাকর্মীদের ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখন পরিবর্তনের পক্ষে বলেন বরগুনা জেলা যুবলীগের ধর্মবিষয়ক ইমতিয়াজ নয়ন বেপারী। সাধারণ মানুষ ও তৃণমুল নেতাকর্মীরা পরিবর্তনের ডাক দিয়েই ঝাঁপিয়ে পরেছেন ক্লিণ ইমেজের ছাত্রলীগ রাজনীতি থেকে বেড়ে ওঠা গোলাম সরোয়ার ফোরকানের সমর্থণে।
এই বিষয় কেন্দ্রঘোষিত সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান বলেন, বরগুনার মাটি ও মানুষের হৃদয়জুড়ে আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ভালবাসা। এ জন্য প্রত্যেকটি নির্বাচনে এখানকার মানুষ আওয়ামীগকে নির্দ্ধিধায় ভোট দিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের এই ভালবাসাকে পূঁজি করে এখানে যিনি দীর্ঘদিন সাংসদের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা এখন পরিবর্তন চায়। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে জনগনের কল্যাণে কাজ করে জাতির জনকের সোনার বাংলা ও প্রধানমন্ত্রীর স্মাট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করবো।
বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ তুলছেন তারা আদৌ আওয়ামীলীগ করেন কিনা আমি জানিনা। তাদের অনেকেই ভোট কেন্দ্রে যায় না ও ভোট দেয়না। তবে আমি বিগত দিনে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করেছি। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে আমি নির্বাচন করবো না চাইলে যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করবো।







