মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মাদকের প্রভাবে মানসিক বিকৃতি থেকে এক নির্মম ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘুমন্ত বাবাকে মসলা বাটার ভারী শিল-পাটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার নিজ সন্তান।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার দেউলি সুবিধাখালী ইউনিয়নের পূর্ব সুবিধাখালী গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম উত্তম দেবনাথ (৬০)। তিনি ওই এলাকার মৃত মহেন্দ্র দেবনাথের ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত মাদকাসক্ত ছেলে তাপস দেবনাথকে (২৫) আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর উত্তম দেবনাথের ছেলে তাপস দীর্ঘ দিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে সে মানসিকভাবে কিছুটা বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ঘটনার দিন রাতে প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে উত্তম দেবনাথ ও তার ছেলে তাপস ঘরের ভেতর এবং স্ত্রী কানন দেবনাথ ঘরের পেছনের বারান্দায় ঘুমাতে যান। ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বিকারগ্রস্ত ছেলে তাপস হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে ঘরে থাকা মসলা বাটার ভারী শিল-পাটা দিয়ে তার বাবার কপালের ডান পাশের ভ্রুর ওপরে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে আঘাত করে।
এ সময় উত্তম দেবনাথের আত্মচিৎকার শুনে তার স্ত্রী কানন দেবনাথ ছুটে আসেন। ঘরের ভেতর স্বামীর রক্তাক্ত ও বীভৎস অবস্থা দেখে তিনি চিৎকার করতে করতে প্রতিবেশী বাবুল দেবনাথের ঘরে যান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উত্তম দেবনাথকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায় এবং থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই ঘাতক ছেলে তাপস দেবনাথকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পুত্র তাপস দেবনাথকে আটক করা হয়েছে।







