কলাপাড়া প্রতিনিধি : কুয়াকাটায় পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আবদুল বারেক মোল্লার বিরুদ্ধে জমি এবং বিএনপির কার্যালয় দখলের অভিযোগ এনে তা উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আঃ আজিজ মুসুল্লী।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৌর বিএনপির সভাপতি আঃ আজিজ মুসুল্লী বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরজবরদস্তি করে তাদের রেকর্ডীয় জমি ও বিএনপির কার্যালয় দখল করে রাখা হয়েছে। সেখানে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া তুলছেন আঃ বারেক মোল্লা।
তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা নিজেরাই জমি উদ্ধার করতে পারতেন, তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তারা আইনি ও সামাজিকভাবে সুরাহার চেষ্টা চালিয়ে কোনো প্রতিকার পাননি। তাই বাধ্য হয়ে গণমাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসএ জেএল নং-৩৪, লতাচাপলী মৌজার এসএ ১২২৭ নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এসএ ৫১৭৮, ৫১৮০ ও ৫১৮৪ নং দাগে মোট ১৭.৫০ একর জমির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন আরজ আলী শেখ। তার নিকট থেকে ১৯৬৫ সালে ১৮০৭ নং সাব-কবলা দলিলমূলে ১.৩৩ একর জমি ক্রয় করেন আঃ আলী শেখ। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৫৮৫ নং সাব-কবলা দলিলমূলে আঃ আজিজ মুসুল্লী, আলী আহম্মেদ শেখ, আঃ মন্নান (ময়নুদ্দিন) ও নুর আলম শেখ গং যৌথভাবে ২১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন মহাসড়কের পাশ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে সেখানে দোকানঘর ও বিএনপির কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারেক মোল্লার নেতৃত্বে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তা দখল করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভূইয়া অভিযোগ করেন, ২০০৫ সালে তিনি বৈধ দলিলমূলে জমি ক্রয় করে মার্কেট নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ব্যবসা করছিলেন। পরবর্তীতে আব্দুল বারেক মোল্লা ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীরের অনুসারীরা তাকে উৎখাত করে। বাধা দিতে গেলে হামলা, হয়রানি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসারমূলক মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর যুবদলের সহ-সভাপতি মো. নুর আলম শেখ ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল। তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও তারা আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে বৈধ দলিল ও রেকর্ড যাচাইপূর্বক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এদিকে জমি দখলের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ বারেক মোল্লা বলেন, ‘‘আমার কোনো মার্কেট নেই এবং আমি কারো জমি দখল করিনি। যে জমি বা মার্কেটের কথা বলা হচ্ছে, ওই জমির প্রকৃত মালিক আমার ভাতিজা বেল্লাল মোল্লা। ১৯৯৯ সালে সেকান্দর আলী শেখের কাছ থেকে পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক কমিশনার মিলন মিয়ার স্ত্রী জমিটি ক্রয় করেন, পরবর্তীতে তার কাছ থেকে বেল্লাল মোল্লা কিনে মার্কেট নির্মাণ করে ভোগদখলে আছে। এ জমি নিয়ে আদালতে ৫টি নিষেধাজ্ঞা ও মামলা চলমান রয়েছে। বাবা না থাকায় আমি শুধু ভাতিজার পাশে থেকে সহযোগিতা করেছি।’’
তিনি আরও দাবি করেন, কুয়াকাটা বেড়িবাঁধের বাইরে বিএনপির কখনো কোনো কার্যালয় ছিল না। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে এবং মার্কেট দখলের উদ্দেশ্যে বানোয়াট অভিযোগ তোলা হচ্ছে।







