কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদারের বিরুদ্ধে জমি দখল নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা এবং ৪টি সনাতনী পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কলাপাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ সিকদার।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কলাপাড়া প্রেসক্লাবে ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দেবাশীষ সিকদার জানান, তিনি পূর্ণচন্দ্র হাওলাদারের ছেলে পুলিন চন্দ্র হাওলাদার গংয়ের ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে। তাদের পারিবারিক জমির পৈত্রিক বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ খোকন মন্ডল ও তার সহযোগীরা গত ২৯ জুলাই বরিশাল থেকে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকায় কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট জমি দখলের অভিযোগ তুলিয়ে সংবাদ প্রকাশ করান। তিনি এই মনগড়া সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ৪টি পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের অনিল চন্দ্র হাং, পুলিন চন্দ্র, আভারানী, সবিতা রানী, সুনিল হাং ও ঠাকুরানী।
দেবাশীষ সিকদার প্রকৃত ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, খোকন মন্ডল একজন সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের সদস্য ও মামলাবাজ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার কাকাদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং এ বিষয়ে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। গত ১০ জুলাই একটি ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে গেলে খোকন ও তার ভাইসহ সন্ত্রাসীরা শত শত মানুষের সামনে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সত্যতা পেয়ে গত ১১ জুলাই পুলিশ খোকনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে খোকন কুচক্রী মহলের সাথে মিলে উপজেলা বিএনপির সভাপতির সুনাম ক্ষুণ্ন করার অসৎ উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা সংবাদ প্রচার করান।
জমির আইনি বিবরণ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নং জে.এল নীলগঞ্জ মৌজায় পিএস ১০৮ নং খতিয়ানের ৭৮২২ নং দাগসহ অপর ৯টি দাগে ৭.৪১ একর জমির রেকর্ডীয় মালিক পূর্ণচন্দ্র হাওলাদার। পিএস ১০৮ ও আরএস ১৪৫ নং খতিয়ানের ১৩৭০ নং দাগসহ ১০টি দাগে ৭.৪৩ একর ভূমিতে ভুলবশত পরেশ চন্দ্রের নামে রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে রেকর্ডীয় পরেশ চন্দ্র মন্ডল ভুল রেকর্ড স্বীকার করে খেপুপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ১২৩৪ নং রিলিজ বা না-দাবি পত্র দলিলের মাধ্যমে ৩.৭১৫০ একর জমির দাবি প্রত্যাহার করেন। এরপর এসএ ১৭৩ নং খতিয়ানের ৭.৪৩ একর ভূমি ১৯৭১-৭২ সনে ১১৫৬ নং মিউটেশন কেসের মাধ্যমে পূর্ণচন্দ্র হাওলাদারের নামে শুদ্ধভাবে রেকর্ড হয়।
পরবর্তীতে বিএস জরিপকালীন পুলিন চন্দ্র হাওলাদার গংদের নামে বাড়ির ০.৩৬ শতাংশ জমি রেকর্ড হয়ে বাকী জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। অর্পিত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার দাবিতে পূর্ণ চন্দ্র হাওলাদার গং কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মোকাদ্দমা নম্বর ৩২৬/২২ দায়ের করেন। গত ১৭ জুলাই বিজ্ঞ আদালত বিবাদী পক্ষের (খোকন মন্ডলদের) বিরুদ্ধে দোতরফা নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করেন। কিন্তু বিবাদীরা সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় ভূমি দখলের পায়তারা ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেবাশীষ সিকদার চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে মামলার বাদী তার কাকা পুলিন চন্দ্র হাওলাদার গংদের ৪টি পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে এই ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্থ সনাতনী পরিবারগুলোর জীবন ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত খোকন মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আরএস, এসএ ও বিএস রেকর্ড অনুযায়ী তার দাদা পরেশ চন্দ্র মন্ডল জমির মালিক এবং ওয়ারিশ সূত্রে তারা ভোগ দখলে রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার ও তার ছেলে রিমন সিকদারের নেতৃত্বে দেবাশীষ সিকদার প্রভাব খাটিয়ে তাদের দখলীয় জমি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা চালাচ্ছেন। পৈত্রিক সম্পত্তি বাঁচাতে গিয়ে তাকে উল্টো মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়েছে বলে দাবি করে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।







