কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক মেগা প্রকল্প নির্মাণের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বেসরকারি সংস্থা ‘প্রান্তজন’-এর আয়োজনে স্থানীয় মানুষের দুই বছরের এক গণগবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গণগবেষণার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, অ্যাকশনএইডের সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার মারজিয়া জাহান, প্রান্তজনের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং ধানখালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণার ফলাফল প্রকাশকালে জানানো হয়, ধানখালীতে কয়েকটি অপরিকল্পিত জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক মেগা প্রকল্প (তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র) নির্মাণের ফলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় নজিরবিহীন বিরূপ পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে ‘প্রান্তজন’-এর উদ্যোগে এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমানের সহযোগিতায় ২০ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে নিয়ে ওই এলাকায় একটি গণগবেষণা পরিচালিত হয়।
গবেষণায় যেসব নেতিবাচক দিক উঠে এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থিক সচ্ছলতার অবনতি, ক্রমবর্ধমান সামাজিক সংকট এবং চিরায়ত পেশার বিলুপ্তি। সুপেয় পানির তীব্র সংকট, বিশুদ্ধ বায়ুর অভাব, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানের ক্ষয় এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি। কৃষি উৎপাদনে বিপর্যয়, জনস্বাস্থ্য সংকট ও বহুমাত্রিক রোগব্যাধির বিস্তার। নারীদের ওপর লিঙ্গভিত্তিক বিরূপ প্রভাব এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।’
পরিবেশ ও জনজীবন রক্ষার্থে গবেষণা থেকে বিষাক্ত কয়লা বর্জ্য ও ফ্লাই অ্যাশের বিস্তার বন্ধ করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্টসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে গণগবেষণায় অংশগ্রহণকারী স্থানীয় গবেষকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।







