কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স (খানা প্রতি কর) আদায়ের লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
চলতি অর্থবছরে ট্যাক্স আদায়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে পরিষদ প্রশাসক ও সচিব সুনির্দিষ্ট কোনো সদুত্তর না দিয়ে দায়সাড়া জবাব দিচ্ছেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. নাহিদুল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ওই ইউনিয়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে।
সর্বশেষ চলতি অর্থবছরে ইউপি ট্যাক্স উত্তোলনের জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি তৃতীয় পক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে খানা প্রতি ট্যাক্স আদায়ের এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় গরমিল। মাঠপর্যায় থেকে টাকা সংগ্রহ এবং ইউনিয়ন পরিষদ ফান্ডে জমা দেওয়ার রসিদের মধ্যে বড় ধরনের শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৯ লাখ টাকার ওপরে ট্যাক্স আদায় করা হয়েছে। অথচ ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাকি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার কোনো সদুত্তর মিলছে না।
গ্রাম পুলিশরা জানান, ট্যাক্সের টাকা থেকেই তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু সংগৃহীত টাকা সম্পূর্ণ জমা না দেওয়ায় তারা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গ্রাম পুলিশ বলেন, মাঠপর্যায়ে টাকা আদায় হলেও তা তহবিলে কম জমা হওয়ার পেছনে বড় কোনো নয়-ছয় রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. হাসনাত টিটু বলেন, ‘‘আমি রিসিভে যে পরিমাণ টাকা পেয়েছি, তাই জমা করেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’’ তবে তৃতীয় পক্ষ থেকে টাকা বুঝে নেওয়ার সময় বা রিসিভ করার সময় ইউপি সদস্য বা গ্রাম পুলিশদের কেন জানানো হলো না—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। বিষয়টি প্রশাসক অবগত আছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘এ বিষয়ে সচিব বলতে পারবেন। তবে তৃতীয় পক্ষ সচিবকে যে হিসাব দিয়েছে, সেটার পরিমাণ হয়তো সাড়ে ৫ লাখ টাকার মতো। প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আদায় হয়েছে, সেটা তৃতীয় পক্ষ ও গ্রাম পুলিশ বলতে পারবে। তাছাড়া, আমরা যাদের ট্যাক্স সংগ্রহের জন্য চুক্তিবদ্ধ করেছি, তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। আবারও ব্যাখ্যা চাওয়া হবে এবং বিধিবহির্ভূত কিছু হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘‘বাকি টাকাগুলো কোথায় গিয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আমি নিজেই ওই পরিষদে গিয়ে বিষয়টি সরেজমিন খতিয়ে দেখব।’’
স্থানীয়রা অবিলম্বে এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।







