সাথী প্রতিবেদকঃ পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে এক ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেয়ে ওই ছাত্রলীগ সভাপতির লোকজন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও শ্রমিকদের পিটিয়েছে এবং নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধ করে রড নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন শেখ রাসেল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আর এ ঘটনায় ভুক্তোভোগী মঙ্গলবার রাতেই দুমকী সদর থানায় প্রতিকার চেয়ে এবং বুধবার সকালে পবিপ্রবির উপাচার্য বরাবর নিরাপত্তা চেয়ে অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ সভাপতির নাম আরাফাত ইসলাম খান সাগর। আর এ ঘটনায় অভিযোগ করেছেন মেসার্স আমির ইন্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. এনামুল হক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পবিপ্রবির শেখ হাসিনা হল ও শেখ রাসেল হলের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমির ইন্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই পবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাত ইসলাম খান সাগর প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক এনামুল হকের কাছে চাঁদা দাবি করে। তবে তিনি চাঁদা না দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে ওই ব্যবস্থাপককে হুমকি ধামকি দিয়ে থাকেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টার দিকে শেখ রাসেল হলের নির্মাণাধীন ভবনের রড ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন পবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী সুরিদ, ইমরান হোসেন সহ তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। এসময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির সুপারভাইজার কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন জিেেজ্ঞস করলে তারা জানান,‘ছাত্রলীগ সভাপতি আরাফাত ইসলাম খান সাগর রড নিয়ে যেতে বলছে’ এসময় ব্যবস্থাপক এনামুল হক এসে বাঁধা দিলে এবং প্রতিষ্ঠানের মালিককে জানিয় সময় চাইলে ছাত্রলীগ নেতা সুরিদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবস্থাপক এনামুল হকসহ কর্মরত কর্মীদের রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে এবং এনামুল হকের মোবাইল নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে চাইলে সেখানেও বাঁধা দেয় ছাত্রলীগ।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এনামুল হক বলেন,‘ আমাকে এবং আমাদের ষ্টাফদের বেধরম মারধর করেছে ছাত্রলীগ সভাপতি সাগরের লোক সুরিদসহ অনেকে। এসময় আমার মোবাইলটাও নিয়ে যায়। শুধু আজ না, সাগর বিভিন্ন সময়ে আমাকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে মেয়েদের দিয়ে ইভটিজিং করাবে বলেও হুমকি দেয়। ও চাঁদা চেয়েছে ভিডিও রেকর্ড সডহ প্রমান আছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম রব্বানী সুরিদ বলেন,‘ছাত্রলীগ সভাপতি ক্যাম্পাসে নেই এবং সে জানেও না এঘটনা সম্পুর্ন মিথ্যা। মূলতঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে কনষ্ট্রাকশন এর কাজে অবৈধ লাইসেন্স বিহীন গাড়ি চলে, এ কারনে গতকাল জিগ্গেস করতে গেছিলাম কিন্তু তারা আমাদের উত্তেজিত হয়ে উল্টো ঘটনা ঘটালো।’
লাইসেন্স চেক করার দায়িত্ব আপনাকে কে দিছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে জিজ্ঞেস করার অধিকার আছে এছাড়া প্রক্টর তাকে জানিয়েছি তিনি বলেছেন, লাইসেন্স বিহীন গাড়ি পেলে থামিয়ে রাখতে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাত ইসলাম খান সাগর বলেন,‘ আমি অসুস্থ গত দুইদিন পর্যন্ত ঢাকা, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন,‘ আমাদের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছে, এবং তদন্ত চলমান আছে। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ ব্যাপারে পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর সন্তোষ কুমার বসু বলেন,‘বিষয়টি শুনেছি এরকম একটি অভিযোগ দিয়েছে, আমরা ইন্টার্নাল সমাধান করার চেষ্টা করছি। তবে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পবিপ্রবির উপাচার্য ড.স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে বলে জানান তিনি।







