কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পূর্ব দিকে চর গঙ্গামতি এলাকায় জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে এসেছে প্রায় ৬ ফুট লম্বা একটি মৃত বটলনোজ ডলফিন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য আব্দুল জলিল ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান। পরে পরিবেশকর্মী, কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি, বন বিভাগ এবং বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকালে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় পুরুষ প্রজাতির এই বটলনোজ ডলফিনটির গায়ের চামড়া উঠে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ডলফিনটির লেজে একটি দড়ি বাঁধা ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে ডলফিন রক্ষা কমিটি ও পরিবেশকর্মীরা জানান, দ্রুত পচন ধরায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি এড়াতে মরদেহটি নির্ধারিত স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। ডলফিনটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত বা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন হলেও সামুদ্রিক প্রাণীদের গায়ে প্রায়ই জাল ও দড়ির উপস্থিতি পাওয়ায় উপকূলীয় জেলেদের ব্যবহৃত জালের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি, ২০২৫ সালে ১৭টি এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৬টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এসেছে।
এছাড়াও সম্প্রতি প্রায় ৬০ ফুট লম্বা দুটি মৃত তিমি এবং একাধিক ইরাবতী ডলফিন, শুশুক, স্পিনার ডলফিন ও সামুদ্রিক কচ্ছপের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছ ধরার অবৈধ জালে আটকে শ্বাসরুদ্ধ হওয়া, নৌযানের ধাক্কা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং তেল বা রাসায়নিক দূষণই এসব প্রাণীর মৃত্যুর প্রধান কারণ।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় ডলফিন ও কচ্ছপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় অঞ্চলে একের পর এক প্রাণীর এই মৃত্যু পরিবেশের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। এই সংকট নিরসনে দ্রুত সমন্বিত গবেষণা, সাগরে নজরদারি বৃদ্ধি, জেলেদের সচেতনতা সৃষ্টি এবং কার্যকর সামুদ্রিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।







