দুমকি প্রতিনিধি : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) দুই শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে মারধর, টাকা-পয়সা ছিনতাই এবং এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুমকি গ্রামের পাঁচ যুবকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে দুমকি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৭ম সেমিস্টারের ছাত্র নোবেল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২য় সেমিস্টারের এক ছাত্রী অটো রিকশাযোগে ঘুরতে বের হন। তাদের অটো রিকশাটি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ি মাদ্রাসার পূর্বপাশে পৌঁছালে অভিযুক্তরা গতি রোধ করে।
অভিযুক্তরা নোবেলকে অটো রিকশা থেকে নামিয়ে নির্জন স্থানে আটকে রেখে মারধর করে এবং তার কাছে থাকা সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তাদেরই একজন অটোতে উঠে ওই নারী শিক্ষার্থীর ব্যাগ টানাটানি করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং তার কাছ থেকেও এক হাজার ছয়শত টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভুক্তভোগীদের ডাকচিৎকার শুনে তিনি দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাদের উদ্ধার করে দুমকিতে পাঠিয়ে দেন। সময়মতো তাদের উদ্ধার করা সম্ভব না হলে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে দুমকি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন—দক্ষিণ দুমকি গ্রামের রিফাত মৃধা, হাসান তালুকদার, মাহিন তালুকদার, জাহিদ হাওলাদার ও রফিক তালুকদার। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পবিপ্রবি’র প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানা প্রশাসনের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে অভিযুক্তদের শনাক্তপূর্বক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘‘ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটলেও আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছি এবং তাদের সব ধরনের নৈতিক মানসিক সমর্থন দিচ্ছি।’’
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১০ ও ৩০ (যৌন হয়রানি ও সহায়তা) এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







