বরগুনা প্রতিনিধি : ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল করা, মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরগুনায় মাসিক পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বরগুনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বরগুনার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল মাসুদ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইন।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য বিচারকবৃন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার, এসআরবি-৮ পটুয়াখালীর প্রতিনিধি, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক।
এছাড়াও বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এবং জেলার বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে মামলার তদন্ত, সময়মতো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, আদালতে সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইফতি হাসান ইমরান পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরের সমস্যা ও তার সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরেন। এতে বরগুনা সদর, আমতলী, পাথরঘাটা, বেতাগী, তালতলী ও বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ ছাড়াও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও কোর্ট ইন্সপেক্টরসহ তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্ব-স্ব কাজের অভিজ্ঞতা ও মতামত প্রকাশ করেন।
এছাড়াও সম্মেলনে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার নানাদিক তুলে ধরেন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রানা শেখ, আরিফ হোসাইন, মো. পনির শেখ, মো. আনোয়ার হোসেন, ইফতি হাসান ইমরান ও মো. মনিরুজ্জামান।
অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা গেলে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়বে, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমাবে।
সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ সম্মেলনে উঠে আসা সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসবে এবং পুলিশ ও বিচার বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে। বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরণের নিয়মিত সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিজ্ঞজনরা মনে করেন।







