উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, সরকারি সেবায় সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং খসড়া বৈষম্যবিরোধী আইনে বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) পটুয়াখালী সদর উপজেলায় আয়োজিত এক জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের পরামর্শসভায় বক্তারা এ দাবি জানান। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (MJF) এবং সেবা মানব কল্যাণ কেন্দ্র (SMKK)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘NAGORIKATA: CEF’ প্রোগ্রামের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (GAC) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থায়নে এবং FMA-GFA-এর সার্বিক সহযোগিতায় প্রোগ্রামটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
পরামর্শসভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যরা অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, নারী, যুব, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া, মান্তা, রাখাইন ও জেলে সম্প্রদায়সহ সব ধরনের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও সরকারি সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বৈষম্যের সুনির্দিষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও বৈষম্যহীন নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এস এম ফজলুল করিম বলেন, ‘‘সরকারি সেবা গ্রহণে বৈষম্যের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সনদ (সিটিজেন চার্টার) সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং কোনো নাগরিক সেবাবঞ্চিত হলে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে উপস্থাপন করতে হবে।’’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আসিম আব্রার বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নে সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে বলেন, তথ্যভিত্তিক সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার জোরদার করা প্রয়োজন।
এমজেএফ-এর সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর (প্রোগ্রাম) মো. জিয়াউল করিম বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়াটি পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রান্তিক ও উপকূলীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সুনির্দিষ্ট মতামত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
সভায় ২০২২ সালের বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়া পর্যালোচনার লক্ষ্যে একটি বিশেষ দলীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ও সুপারিশ পেশ করেন।
সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— নারীর জন্য সমকাজে ন্যায্য মজুরি প্রদান ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ নিশ্চিত করা। যুবসমাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং শিক্ষায় সমান সুযোগ সৃষ্টি। কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষার আওতা বৃদ্ধি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া ও মান্তা জনগোষ্ঠীর সার্বিক বৈষম্যহীন অন্তর্ভুক্তি, রাখাইন সম্প্রদায়ের ভূমির অধিকার রক্ষা এবং প্রান্তিক জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিতকরণ।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ‘জলবায়ু ঝুঁকি বিমা’ চালুকরণ, সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহি জোরদার এবং ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ‘বৈষম্যবিরোধী নজরদারি কমিটি’ গঠনের জোরালো প্রস্তাব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে NAGORIKATA: SCEGE-CVC প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী সুনীল জীবন চাকমা বলেন, কমিউনিটির মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।







