পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সেবার নামে রোগীর সাথে প্রতারণা ও চরম বিশৃঙ্খলার খবরের মধ্যেই এবার নিজের সহকারীকে মারধর ও জুতা পেটার অভিযোগ উঠেছে এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. তাসলিমা ফেরদৌসী রিমা। তিনি কলাপাড়ার ‘ম্যাক্স হাসপাতাল’-এ কর্মরত আছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হাসপাতালটির সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নিজ কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত সহকারী লামিয়া বেগমকে (২২) কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত লামিয়া বেগম জানান, তিনি বিগত ৪ বছর ধরে ডা. রিমার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। ঘটনার দিন রাতে চিকিৎসক তাকে তিনটি মুঘলাই পরোটা কিনে আনার নির্দেশ দেন। লামিয়া মুঘলাই কিনে চিকিৎসকের গাড়িচালকের মাধ্যমে তার কক্ষে পাঠান। তবে খাবার পৌঁছে দিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ডা. রিমা। একপর্যায়ে তিনি লামিয়াকে ওয়েট পেপার, হার্ডবোর্ড এবং নিজের জুতা দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চিকিৎসক ডা. তাসলিমা ফেরদৌসী রিমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও চরম অবহেলার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর এই ম্যাক্স হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সেবিকার (নার্স) অবহেলায় এক নবজাতকের পা ভেঙে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। পর পর দুটি বিতর্কিত ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, ‘‘খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’







