মোঃ রিয়াদ হোসাইন, গলাচিপা: বঙ্গাপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্রবদরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি থাকায় উপকূলীয় গলাচিপায় থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। একই সাথে গলাচিপার সাথে নৌ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার অভ্যন্তরীণ-পরিবহন সীমিতভাবে চলাচল করছে। পায়রা নদী বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিপিপি’র উপজেলা অফিস।
উপজেলার চরকাজল-বন্যাতলী খেয়াঘাটের কিবরিয়া মুন্সি বলন, ‘গত দুই দিন ধরে নদী খুব উত্তাল। মাঝে মধ্যে যাত্রী পারাপার করি। কিন্তু এখন আবহাওয়া বেশি খারাপ থাকায় আর পারাপার করা হয় না। নদী উত্তাল থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গলাচিপার হরিদেবপুর খেয়ার মাঝি গোপাল মজুমদার বলেন, ‘গত দুই দিন থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। নদীতে তুফান থাকায় গলাচিপার গুরুত্বপূর্ণ হরিদেবপুর খেয়া নিয়মিত চলাচল করতে পারছে না। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার করছি।’
গলাচিপার হরিদেবপুর খেয়াঘাটের মাঝি-শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন বলন, আজ সকাল থেকে কিছু সময় খেয়া বন্ধ রাখছিলাম। আমরা ৫৬ জন মাঝি, পালাক্রমে প্রতিদিন ২৮ জন করে মাঝি খেয়ার দায়িত্ব পালন করি। আমরা যদি একবারেই খেয়া বন্ধ রাখি তাহলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে?। তাই কষ্ট হলেও সীমিত সংখ্যক খেয়া চালু রাখছি।
গলাচিপার রামনাবাদ নদীর জেলে ইব্রাহিম বলন, দুই দিন ধরে নদীতে অনেক তুফান। ছোট নৌকা হওয়ায় আমি আজ মাছ ধরতে পারি নাই। দুই দিন মাছ ধরতে না পেরে পরিবার নিয় আজ কী খাব তা জানি না।
নদী পার হতে না পেরে বন্যাতলী থেকে ফিরে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কবির হাসান জানান, জরুরি কাজে তিনি সকালে গলাচিপা শহর থেকে বন্যাতলী খেয়াঘাট গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, কোনো খেয়া ট্রলার চলাচল করছে না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আবার গলাচিপা শহরে ফিরে আসেন।
এদিকে সিপিপি’র গলাচিপা উপজেলার টিম লিডার আবুহেনা মো. শোয়েব বলেন, লঘুচাপটি নিম্বচাপে রুপ নিতে পারপ। পায়রা নদী বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আমরা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে আছি। তবে বৃষ্টি ও ঝড়ো বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।







