কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর মহিপুরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাদ্রাসা শিক্ষক, প্রবাসী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা’ চাঁদাবাজি মামলা প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের পাইকবাড়ী স্ট্যান্ড এলাকায় এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় দুই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী, নারী ও পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তি সম্প্রতি লতিফপুর ও মনোহারপুর এলাকার আটজন নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মহিপুর থানায় একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন ও প্রবাসীদের জড়িয়ে এলাকা জুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে মাওলানা মো. আইয়ুব আলী বলেন, ‘‘যাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে তারা এলাকার অত্যন্ত সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। কারও সাথে তাদের ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। জমি সংক্রান্ত বিষয়ের জেরে এভাবে সম্মানিত শিক্ষক ও প্রবাসীদের চাঁদাবাজ বানিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিরীহ মানুষের হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’’
স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগমসহ একাধিক বক্তা বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধ আইনগতভাবে নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেটিকে ভিন্ন খাতে নিয়ে নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাসানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বক্তারা দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষকদের মতো সম্মানিত ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে এমন ভিত্তিহীন মামলায় জড়ানো হলে এলাকায় অনাস্থা তৈরি হয়। তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ ব্যক্তিদের দ্রুত এই মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা।
জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধে দায়ের করা উক্ত মামলায় অভিযুক্ত আটজন হলেন—মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৭), আব্দুল মতিন গাজী (৩৫), মো. শহিদুল ইসলাম (৩৫), মাওলানা মো. মাহতাব উদ্দিন (৫৫), মো. আলতাফ হোসেন গাজী (৫৫), মো. রাজু খলিফা (২৫), মো. শাহিন মীর (৩৮) ও মঞ্জু হাওলাদার (৩৭)। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-র তদন্তাধীন রয়েছে।
তবে মামলার অভিযোগের সত্যতা ও আসামিদের বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত কোনো বক্তব্য বা ফলাফল এখনো জানা যায়নি। মানববন্ধনে উপস্থিত এলাকাবাসী সিআইডির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং নির্দোষদের মামলা থেকে খালাস দেওয়ার জোর দাবি জানান।







