উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই ধান উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশুরীবুনিয়া প্রযুক্তি গ্রামের ৪০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালীর ব্যবস্থাপনায় এবং “নতুন ০৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি)” প্রকল্পের উদ্যোগে এ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে পটুয়াখালী খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ আমানুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কার্যালয় প্রধান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মুহম্মদ আশিক ইকবাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এলএসটিডি প্রকল্পের কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোঃ আমানুল ইসলাম বলেন, ‘‘উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের প্রতিবছর জোয়ার-ভাটা, জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। এসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে আমন মৌসুমে ব্রি উদ্ভাবিত জলবায়ু-সহনশীল ও উচ্চফলনশীল ধানের জাত চাষ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্রি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ উপকূলের কৃষি অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’’
ব্রি’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ আশিক ইকবাল খান বলেন, ‘‘এলএসটিডি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো অঞ্চলভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে উপযোগী ধানের জাত ও প্রযুক্তি কৃষকের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। বৈজ্ঞানিক উপায়ে সঠিক মাত্রায় সার ও প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলন ও আয় বৃদ্ধি পাবে।’’
এ বিষয়ে এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, উপকূলীয় কৃষি আজ জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী আধুনিক ধানের জাত ও সার সময়মতো কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দেশে টেকসই ধান উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
কর্মসূচীর আওতায় পশুরীবুনিয়া প্রযুক্তি গ্রামের নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে সঠিক মাত্রায় ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক সারসহ প্রয়োজনীয় কীটনাশক, বালাইনাশক ও সাইনবোর্ড প্রদান করা হয়। সময়মতো মানসম্মত এসব কৃষি উপকরণ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এলাকার কৃষকরা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) তাদের এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলে স্থানভিত্তিক ধানের জাত উদ্ভাবন, যাচাই এবং প্রযুক্তি গ্রাম গঠনের মাধ্যমে কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাচ্ছে।







