গলাচিপা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভা এবং আশপাশের এলাকার একসময়ের ঐতিহ্যবাহী খালটি পুনরুজ্জীবিত করতে অবশেষে খনন কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ। পৌরসভাসহ কালিকাপুর বাজার, ডাকুয়া ও রতনদী তালতলী—এই তিনটি ইউনিয়নের প্রাণের স্পন্দন হিসেবে পরিচিত খালটি বছরের পর বছর অবৈধ দখল আর পলি পড়ে অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছিল।
একসময় এই খালে নিয়মিত নৌকা ও ট্রলার চলত। গৃহস্থালি কাজসহ সর্বসাধারণের নিত্যপ্রয়োজনে খালের পানি ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে খালের দুই পাড়ে দোকানঘর, বসতবাড়ি, রিকশার গ্যারেজ এবং পানের বরজ তৈরি করে অবৈধভাবে দখল গড়ে তোলে প্রভাবশালী ও স্থানীয় একাংশ। ফলে প্রবহমান খালটি একপর্যায়ে খণ্ড খণ্ড ডোবায় পরিণত হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে পৌরসভা থেকে কালিকাপুর কালভার্ট এলাকা পর্যন্ত খালের জীর্ণ রূপ চোখে পড়ে। ডাকুয়া গ্রামের বাসিন্দা ফেরজা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘একসময় এই খালে নৌকা চলত, আমরা পানি নানা কাজে ব্যবহার করতাম। এখন বোঝাই যায় না এটা খাল নাকি ডোবা। খালটি খনন করা অত্যন্ত জরুরি।’’
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, খালটি দখলমুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গলাচিপা পৌরসভার শংকর দাস বলেন, ‘‘আগের কোনো এমপি বা মেয়র এটি উদ্ধারে উদ্যোগ নেননি। বর্তমান প্রশাসন ও চেয়ারম্যানরা যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।’’
কালিকাপুর বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, ‘‘অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এই খালের পানি দ্রুত আগুন নেভাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম হাওলাদার ও মোস্তাফিজুর রহমান খন্দকার জানান, কালিকাপুর কালভার্ট থেকে মাটিভাঙা পর্যন্ত পুরো খালটি দ্রুত খনন করা হলে পুরো এলাকার কৃষি ও সাধারণ মানুষের পানির সংকট দূর হবে।’’
তবে খনন কাজ শুরু হলেও গতি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কালিকাপুর বাজারের ব্যবসায়ী মিঠু খন্দকার জানান, ‘‘খালের দুই পাড় ছাড়ার জন্য মাইকিং করা হলেও দখলদারদের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। এমনকি কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদারদের নানা বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’’
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জলবদ্ধতা দূর করা এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সব কৌশল অবলম্বন করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। পুরো খালটি সফলভাবে খনন শেষ হলে ওই তিনটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার কৃষিকাজ, বর্জ্য নিষ্কাশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আবার প্রাণ ফিরে আসবে।






