সাথী প্রতিবেদক: পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলায় মাদ্রাসার সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের সময় আরোজবেগী দাখিল মাদ্রাসার সুপারকে আটক করে দশমিনা থানা পুলিশ।
গত ১০ ই অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে অগ্রণী ব্যাংক দশমিনা শাখায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ আরোজবেগী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোশারফ হোসেন মঙ্গলবার সকালে অগ্রণী ব্যাংক দশমিনা শাখায় ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য একটি চেক জমা দেন। অগ্রনী ব্যবস্হাপক চেকের স্বাক্ষর যাচাই-বাছাই করে দেখেন ওই মাদ্রাসার সভাপতির স্বাক্ষর মিলছে না। তখন মাদ্রাসার সুপারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন এ স্বাক্ষর সভাপতির। অগ্রনী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মাদ্রাসার সভাপতিকে ফোন করে জিজ্ঞেসা করলে চেক দিয়েছেন সভাপতি তিনি অস্বীকার করেন। পরে দশমিনা থানাকে অবহিত করলে পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেনকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। অগ্রণী ব্যাংক দশমিনা শাখার ব্যবস্থাপক মো. ইমাম হোসেন বলেন, ‘আমি পয়লা অক্টোবর যোগদান করি। সবার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়ে ওঠেনি। সকালে দক্ষিণ আরোজবেগী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোশারফ হোসেন ৪৩ হাজার টাকার চেক দিলে আমি স্বাক্ষর যাচাই করে দেখি সভাপতির স্বাক্ষর জাল। দশমিনা থানায় অবহিত করলে পুলিশ এসে তাঁকে নিয়ে যায়।’
দক্ষিণ আরোজবেগী দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘সুপার এর আগেও আমাদের টিউশন ফি, এমপি মহোদয়ের মাদ্রাসা উন্নয়নের টাকা সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। আজ একই কাজ করতে গিয়ে ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে ধরা খায়। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
মাদ্রাসার সভাপতি শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন সুমন বলেন মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এমন কাজ করে আসছেন। আমাকে না বলে মাদ্রাসার সাধারণ তহবিলে থাকা টাকা আত্মসাৎ করার জন্য এভাবে ১৫-১৬টি চেক দিয়ে আমার স্বাক্ষর জাল কওে তিন লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছেন।’ সভাপতি আরও বলেন, অগ্রণী ব্যাংক দশমিনা শাখা ব্যবস্থাপক আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি দশমিনা থানা হেফাজতে আছেন। কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, অগ্রণী ব্যাংক দশমিনা উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক বেলা ১টার দিকে ফোন করে বিষয়টি জানান। থানা উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেনকে পাঠিয়ে মাদ্রাসা সুপার মোশারফ হোসেনকে চেকসহ থানায় নিয়ে আসে। আজ বুধবার দশমিনা সদর থানার মামলা দায়ের করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।







